বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকটে দেশের রপ্তানিমুখী নিটওয়্যার শিল্পে উৎপাদন ও সরবরাহব্যবস্থা বড় ধরনের চাপে পড়েছে। বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) এক জরিপে অংশ নেওয়া কারখানাগুলোর প্রায় ৫৫ শতাংশ জানিয়েছে, জ্বালানি সংকটের কারণে তাদের রপ্তানি আদেশ কমেছে অথবা বাতিল হয়েছে।
বিকেএমইএর জরিপ অনুযায়ী, সংগঠনটির সচল প্রায় ৮০০ সদস্য প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ২০ শতাংশ, অর্থাৎ আনুমানিক ১৬০টি কারখানা থেকে তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। ফলে জরিপের ফলাফলকে পুরো খাতের চূড়ান্ত চিত্র না বলে অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর অভিজ্ঞতার প্রতিফলন হিসেবে দেখা উচিত।
জরিপে অংশ নেওয়া ৮৭ শতাংশ প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, গ্যাস ও বিদ্যুতের সংকটের কারণে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পণ্য রপ্তানির জন্য পাঠানো সম্ভব হয়নি। সময়মতো সরবরাহ নিশ্চিত করতে না পারায় প্রতি তিনটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে প্রায় দুটি বিদেশি ক্রেতাকে মূল্যছাড় দিতে বাধ্য হয়েছে।
জ্বালানি সংকটের প্রভাব উৎপাদনেও স্পষ্ট। জরিপে ৭৫ শতাংশ প্রতিষ্ঠান গ্যাস সংকট এবং ৯০ শতাংশ প্রতিষ্ঠান বিদ্যুৎ সংকটে সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কথা জানিয়েছে। সংকটের সময় স্বাভাবিক অবস্থার তুলনায় গ্যাসের চাপ সর্বোচ্চ ৭৮ শতাংশ পর্যন্ত কমে যাওয়ার তথ্যও উঠে এসেছে।
নিরবচ্ছিন্ন উৎপাদন ধরে রাখতে বিকল্প জ্বালানির ওপর নির্ভর করতে হয়েছে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানকে। এতে ৯২ শতাংশ কারখানার উৎপাদন ব্যয় বেড়েছে। একই হারে কারখানাগুলো শ্রমঘণ্টা নষ্ট হওয়ার কথাও জানিয়েছে। তিন-চতুর্থাংশের বেশি প্রতিষ্ঠানে উৎপাদন আংশিকভাবে ব্যাহত হয়েছে অথবা কোনো কোনো সময়ে বন্ধ রাখতে হয়েছে।
সবচেয়ে বড় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে ভবিষ্যৎ রপ্তানি আদেশ নিয়ে। জরিপে ৮৯ শতাংশ কারখানা আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের আস্থা হারানোর ঝুঁকির কথা জানিয়েছে। সময়মতো পণ্য সরবরাহ করতে না পারলে ক্রেতারা অন্য দেশে ক্রয়াদেশ সরিয়ে নিতে পারেন বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আর্থিক চাপও বাড়ছে। জরিপে অংশ নেওয়া ৬০ শতাংশ কারখানা ঋণ পরিশোধে সমস্যায় পড়ে খেলাপি হওয়ার আশঙ্কা জানিয়েছে। ইতোমধ্যে ৭ শতাংশ কারখানা পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ার তথ্যও জরিপে উঠে এসেছে।
দেশের রপ্তানি আয়ের অন্যতম প্রধান উৎস তৈরি পোশাক খাত। ফলে দীর্ঘমেয়াদি বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকট শুধু কারখানার উৎপাদন নয়, রপ্তানি আদেশ, কর্মসংস্থান এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের সরবরাহ সক্ষমতার ওপরও চাপ তৈরি করতে পারে। শিল্পমালিকদের মতে, পরিস্থিতি সামাল দিতে নিরবচ্ছিন্ন ও নির্ভরযোগ্য জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিত করা এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
Admin