ঢাকা | বঙ্গাব্দ

পরিচয়হীন মরদেহের শেষ ঠিকানা জুরাইন, স্বজনের অপেক্ষা থেকে যায় অজানায়

  • নিউজ প্রকাশের তারিখ : Sep 16, 2026 ইং
পরিচয়হীন মরদেহের শেষ ঠিকানা জুরাইন, স্বজনের অপেক্ষা থেকে যায় অজানায় ছবির ক্যাপশন: নাম-পরিচয় মেলেনি, স্বজনেরও খোঁজ নেই: শেষ পর্যন্ত পরিচয়হীন মরদেহের ঠিকানা হয় নামহীন কবর
ad728

কোটি মানুষের ব্যস্ত রাজধানীতে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষের যাতায়াত। অথচ এই জনসমুদ্রেই এমন অনেক মানুষের মৃত্যু হচ্ছে, যাদের শেষ পর্যন্ত নাম কিংবা পরিচয় জানা যাচ্ছে না। কখনো ফুটপাত, সড়কের পাশ বা হাসপাতাল এলাকা, কখনো খাল কিংবা নির্জন স্থান থেকে উদ্ধার হচ্ছে পরিচয়হীন মরদেহ। স্বজনের সন্ধান না মিললে আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাদের অনেকের শেষ ঠিকানা হচ্ছে জুরাইন কবরস্থান।


অজ্ঞাত মরদেহ উদ্ধারের পর পুলিশ প্রথমে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে পাঠায়। পরিচয় শনাক্তের জন্য ছবি, পোশাক, শারীরিক বৈশিষ্ট্যসহ প্রয়োজনীয় তথ্য সংরক্ষণ করা হয়। পরিস্থিতি অনুযায়ী সংগ্রহ করা হতে পারে ডিএনএ নমুনাও।


ঢাকা মহানগর পুলিশের বিভিন্ন সময়ের প্রকাশিত তথ্য ও থানার বিজ্ঞপ্তিতে রাজধানীর নানা স্থান থেকে অজ্ঞাত মরদেহ উদ্ধারের ঘটনা পাওয়া যায়। তবে চলতি বছরের প্রথম আট মাসের সমন্বিত পরিসংখ্যান প্রকাশিত না হওয়ায় মোট কতটি পরিচয়হীন মরদেহ উদ্ধার হয়েছে, তার পূর্ণাঙ্গ চিত্র পাওয়া যাচ্ছে না।


শুধু ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল এলাকাতেই সাম্প্রতিক মাসগুলোতে একাধিক অজ্ঞাত মরদেহের পরিচয় জানতে সাধারণ মানুষের সহযোগিতা চেয়েছে পুলিশ। মে মাসে আনুমানিক ৫৫ বছর বয়সী এক নারীর এবং ১২ আগস্ট আনুমানিক ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরীর পরিচয় শনাক্তে বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়।


১২ আগস্টের ঘটনাটি বিশেষভাবে মর্মান্তিক। প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, কিশোরীটিকে মৃত অবস্থায় ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের সামনে নিয়ে আসা হয়েছিল। পরে তার সঙ্গে আসা ব্যক্তিদের আর পাওয়া যায়নি। পরিচয় নিশ্চিত করতে শেষ পর্যন্ত জনসাধারণের সহযোগিতা চায় পুলিশ।


পরিচয় শনাক্ত না হওয়া পর্যন্ত কোনো কোনো মরদেহ দিনের পর দিন মর্গে থাকে। ছবি ও বর্ণনা প্রকাশ, স্থানীয়ভাবে অনুসন্ধান, সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ফরেনসিক বা ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমেও পরিচয় জানার চেষ্টা করা হয়। এরপরও স্বজনের সন্ধান না মিললে নির্ধারিত আইনি ও প্রশাসনিক প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ বেওয়ারিশ হিসেবে দাফনের ব্যবস্থা করা হয়।


রাজধানীতে এসব মরদেহের কাফন, জানাজা ও দাফনের দায়িত্ব দীর্ঘদিন ধরে পালন করে আসছে আঞ্জুমান মুফিদুল ইসলাম। পরিচয়হীন অনেক মানুষের শেষ আশ্রয় হয় জুরাইন কবরস্থানে। নামহীন একটি মরদেহের যাত্রা এভাবেই শেষ হয় এমন এক কবরে, যেখানে হয়তো কোনোদিন তার পরিচয় লেখা সম্ভব হয় না।


সমস্যা আরও জটিল হয়ে ওঠে যখন দাফনের পর কোনো পরিবার তাদের নিখোঁজ স্বজনের খোঁজ করতে আসে। তখন মরদেহ শনাক্ত করা এবং নির্দিষ্ট কবর চিহ্নিত করার প্রক্রিয়া কঠিন হয়ে পড়তে পারে।


এ কারণেই নিখোঁজ ব্যক্তিদের তথ্য, বিভিন্ন থানায় উদ্ধার হওয়া অজ্ঞাত মরদেহের তথ্য, হাসপাতালের মর্গ এবং ডিএনএ তথ্যের মধ্যে আরও কার্যকর সমন্বয়ের প্রয়োজনীয়তা সামনে আসে। একটি কেন্দ্রীয় ও অনুসন্ধানযোগ্য ব্যবস্থা থাকলে নিখোঁজ ব্যক্তি ও অজ্ঞাত মরদেহের তথ্য দ্রুত মিলিয়ে দেখার সুযোগ বাড়তে পারে।


প্রতিটি পরিচয়হীন মরদেহের পেছনেই থাকতে পারে একটি অসমাপ্ত গল্প। জুরাইনের কোনো নামহীন কবরে একজনের শেষ যাত্রা শেষ হলেও, দেশের কোনো প্রান্তে হয়তো তখনও তার পরিবারের কেউ অপেক্ষা করছেন নিখোঁজ প্রিয়জন ফিরে আসার আশায়।


নিউজটি পোস্ট করেছেন : Admin

কমেন্ট বক্স
সর্বশেষ সংবাদ
পরিচয়হীন মরদেহের শেষ ঠিকানা জুরাইন, স্বজনের অপেক্ষা থেকে যায়

পরিচয়হীন মরদেহের শেষ ঠিকানা জুরাইন, স্বজনের অপেক্ষা থেকে যায়